আপনাদের প্রতি আশা রাখছি আমার এই ছোট ব্লগে আপনাদের জন্য মানসম্মত টিউন এবং অনলাইন জগৎতের কুটিনাটি বিষয়গুলো আপনাদের জন্য উপস্থাপন করার চেষ্টা করব।

মঙ্গলবার, ২ ডিসেম্বর, ২০১৪

ত্বকে ছত্রাকের সংক্রমণ!

খাবারে ছত্রাকের আক্রমণ হয় বলে শুনেছি। তাই বলে ত্বকেও ছত্রাকের সংক্রমণ!শরীরের যেসব স্থানে আমিষ থাকে ও ঘাম বেশি হয়, সেখানে এই সমস্যা দেখা যায়। যেমন: ত্বকের ওপরের স্তর, চুল ও নখে। শরীরের ভাঁজে ও ঢাকা জায়গায় সংক্রমণের প্রকোপ বেশি।
পায়ে যে ছত্রাকের সংক্রমণ হয়, তাকে অ্যাথলেট ফুট বলা হয়। এই অংশ খুব চুলকায়, আঁশের মতো ওঠে এবং ফাটা ফাটা হয়ে যায়।
এটি সাধারণত পায়ের আঙুলের ফাঁকে দেখা যায়। যাঁরা খালি পায়ে বেশি বেশি ভেজা জায়গায় চলাফেরা করেন, পানিতে বা কাদায় হাঁটেন, তাঁদের এই সমস্যা হতে পারে।
এই সংক্রমণ হতে পারে নখের যেকোনো অংশেও। সত্যি বলতে কি, ত্বকের তুলনায় নখে ছত্রাকের সংক্রমণ বেশি হয়।


মাথার ত্বকেও হতে পারে এই সংক্রমণ। সাধারণত বাচ্চাদের ক্ষেত্রে এটি বেশি হয়।
কেন এমন হয়?
জামাকাপড়, চিরুনি ও সুইমিংপুল থেকে প্রধানত এই রোগ ছড়ায়। একজনের টুপি অন্যজন ব্যবহার করলেও সংক্রমণ হতে পারে। বহুদিন ধরে অ্যান্টিবায়োটিক খেলেও হতে পারে।
ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে না রাখলেও সংক্রমণ হতে পারে। অতিরিক্ত ওজন থেকেও এই সমস্যা হয় কারও কারও। পানির সংস্পর্শে বেশি থাকলে, ভালো করে হাত-পা না মুছলে সংক্রমণ ঠেকানো কঠিন।


কীভাবে বুঝবেন এটি হয়েছে?
চোখে দেখেই অনেক খানি বোঝা যায়। তবে চিকিৎসককে দেখিয়ে নিশ্চিত হতে হবে।
সাধারণত প্রথমে ত্বক লাল হয়ে যায়। খুব চুলকায় এবং অল্প খোসার মতো ওঠে। ত্বকটি শুষ্ক হয়ে যায়।
‘ছুলি’র মতো বিশেষ ধরনের ছত্রাকের সংক্রমণ প্রধানত হাতের ওপরের অংশ, পিঠ, গলা ও বুকে হয়। ওই সব অংশের ত্বক দেখতে সাদা, গোলাপি বা হালকা কালো হতে পারে।
মাথার ত্বকে হলে অনেকটা জায়গাজুড়েই লাল হতে পারে, চুলকাবে এবং পুঁজভর্তি একটা উঁচু ঢিবির মতো হতে পারে। এ ছাড়া নখে সংক্রমণ হলে রং পাল্টে যায়। নখটি ভঙ্গুর হয়ে পড়ে। এর চারদিকের ত্বক পুরু হয়ে যায়।
পরীক্ষা করেও চিকিৎসকেরা নিশ্চিত হতে পারেন। ত্বক ঘষে ‘স্ক্রেপিং’ পদ্ধতির মাধ্যমে এর পরীক্ষা করা হয়। আবার নখ ও চুলের অংশ পরীক্ষা করে নিশ্চিত হওয়া যায়।

প্রতিরোধে করণীয়
গোসল করার পর বা ঘেমে গেলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শুকিয়ে নিন।
শরীরের খাঁজগুলো শুকনো রাখার চেষ্টা করুন।
ঢিলেঢালা সুতির পোশাক পরুন। এ কাপড় দ্রুত ঘাম শুকিয়ে ফেলে। তাই ছত্রাক বাসা বাঁধতে পারে না।ডায়াবেটিস থাকলে নিয়ন্ত্রণ করুন।
নতুন কোনো প্রসাধনী ব্যবহারের আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে পারলে ভালো হয়, বিশেষ করে যাঁদের ত্বকে সমস্যা বেশি।

চিকিৎসা কী?
বিভিন্ন অ্যান্টিফাঙ্গাল ওষুধ, লোশন, ক্রিম, পেস্ট, শ্যাম্পু ও পাউডার নানাভাবে পাওয়া যায়। সংক্রমণ যেখানে হয়েছে, সেখানে এগুলো লাগাতে হয়। যদি শরীরের অনেকখানি জায়গাজুড়ে হয় এবং মাথা ও নখেও দেখা যায়, তাহলে লাগানোর সঙ্গে খাওয়ার ওষুধও দিতে হবে। যাঁদের বেশি চুলকায়, তাঁদের অ্যান্টি-অ্যালার্জি ওষুধ খেতে হবে।
লোকেশন: Bangladesh

0 মন্তব্য(গুলি):

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

Translate My Site